ত্রিপুরা বিজেপির নতুন প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায়

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘোষণা

আগরতলা: ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বিজেপির নতুন প্রদেশ সভাপতি হলেন মাতারবাড়ির বিধায়ক অভিষেক দেবরায়।

২৮ মে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর নাম ঘোষণা করে। এর ফলে রাজ্য বিজেপিতে নতুন উদ্দীপনা দেখা গেছে।

দলীয় সূত্রের মতে, তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও কর্মনিষ্ঠা এবং নেতৃত্বের দক্ষতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক জীবনের পথচলা

অভিষেক দেবরায়ের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় জাতীয় যুব কংগ্রেসে। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

২০১৭ সালে তিনি কাকড়াবন মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক হন। এরপর ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।

প্রথমে তিনি মন্ডল সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে গোমতী জেলা সভাপতির পদেও কাজ করেন।

ফলস্বরূপ, তিনি সংগঠনের একজন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বের দক্ষতাও প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিধায়ক হিসেবে উত্থান

২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি মাতারবাড়ি কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। এটি ছিল তাঁর প্রথম বিধানসভা নির্বাচন।

এরপর তিনি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা নেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখেন।

ফলে এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

সংবর্ধনা ও মন্দির দর্শন

নতুন সভাপতি ঘোষণার পর কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে ব্যাঙ্গালোর থেকে আগরতলায় ফিরলে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়।

বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বহু কর্মী ও সমর্থক। এরপর একটি বাইক র‍্যালির আয়োজন করা হয়।

পরে তাঁকে দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান নেতাকর্মীরা।

এরপর তিনি উদয়পুরের ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরে যান। সেখানে রাজ্যের মঙ্গল কামনায় পুজো দেন।

একই সঙ্গে তিনি সকলের আশীর্বাদও প্রার্থনা করেন।

নতুন সভাপতির লক্ষ্য

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক দেবরায়। তিনি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কথা জানান।

এছাড়া তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে তৃণমূল স্তরে দলকে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলেন।

শিক্ষা ও ব্যক্তিগত পরিচয়

অভিষেক দেবরায় ১৯৮২ সালে কাকড়াবনে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনেও তিনি সফল ছিলেন।

তিনি কর্ণাটকের রাজীব গান্ধী ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস থেকে বি-ফার্মেসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

বর্তমানে তিনি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।

সামনে যে চ্যালেঞ্জ

নতুন দায়িত্বের সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জও এসেছে। প্রথমত, তাঁকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ও বাড়াতে হবে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি নতুন গতি পেতে পারে। তাই আগামী দিনে তাঁর ভূমিকার দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

https://www.youtube.com/@TripuraTime24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here